শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
হিমছড়ি সমুদ্রে গোসলে নেমে তিন পর্যটক নিহতের ঘটনায় নিখোঁজ আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার কৈলাশে ফিরে গেলেন মা দুর্গা: সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো মানুষের ঢল হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ সৌদি আরবের মদিনা-পূর্বাঞ্চলে ৫টি ড্রোন ছুড়ল হুথিরা স্থানীয় নির্বাচন: বিদ্যমান আইনেই তফসিল, সুযোগ থাকছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উখিয়া ও টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪ আমার নামে মামলা দেন, নিজে গিয়ে জেলে যাব: ইশরাক বাস-ট্রাক সং’ঘ’র্ষে নি’হ’ত ১৪, পরিচয় মিলেছে ৯ জনের অবশেষে বাতিল তৃতীয় শ্রেণির ল্যাব সহকারী ফারুকের ডিলার মহেশখালীতে সারের সব ডিলার এমপি আলমগীর ফরিদ ‘বিএনপি পন্থী’, তৃণমূলজুড়ে চরম অসন্তোষ

ইবাদত কবুলের মৌলিক শর্তসমূহ

বিলাল হোসেন মাহিনী:
সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার আদেশ মান্য করা ও নিষেধ থেকে নিজেকে দূরে রাখার নামই- ‘ইবাদত।’ তবে ওই ইবাদত হতে হবে একনিষ্ঠ নিয়তে এবং আল্লাহর রাসুলের (সা.) দেখানো পদ্ধতিতে। তবেই তা আল্লাহর কাছে কবুলযোগ্য হবে- ইনশাআল্লাহ। নেক আমলের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে মহান আল্লাহর সাহায্য ও রহমত পাওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের ভালো কাজগুলো নেক আমল (ইবাদত) হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে। এর কয়েকটি হলো-

ইমান ও ইসলাম : আল্লাহর ইবাদত কবুলের প্রথম মৌলিক শর্ত হলো- বিশুদ্ধ ইমান ও ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ। মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী দেওয়া এবং নবী কারিম (সা.)-কে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করা। যাদের আল্লাহ, রাসুল (সা.) তথা ইসলামের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস নেই, পরকালে তাদের ভালো কাজের কোনো মূল্য নেই। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর যারা কুফরি করে, তাদের আমলসমূহ বালুময় মরুভূমির মরীচিকার মতো, পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে। অবশেষে যখন সে তার কাছে আসে, তখন সে দেখে সেটা কিছুই নয়। সে সেখানে পায় আল্লাহকে। অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব পরিপূর্ণ করে দেন। আর আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করে থাকেন।’ -সুরা নুর : ৩৯

উল্লিখিত আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, ইবাদত কবুল হতে হলে অবশ্যই ইসলামের প্রতিটি ভিত্তির ওপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হবে। যে ইমানদার ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করবে, পবিত্র কোরআনে তার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদের উত্তম প্রতিদান দেব।’ -সুরা নাহাল : ৯৭

ইখলাস বা একনিষ্ঠতা : ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো- নিঃশর্ত খুলুসিয়াত। ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা না থাকলে সেই আমল মূল্যহীন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার কাছে অহি প্রেরিত হয়েছে যে, তোমাদের মাবুদ (উপাস্য) এক, সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ -সুরা কাহাফ : ১১০

ইবাদতে সুন্নতের অনুসরণ : ইবাদত-বন্দেগিতে অবশ্যই নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করতে হবে। নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নতের পরিপন্থী কোনো পদ্ধতিতে আমল করার কোনো সুযোগ নেই। পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রাসুল তোমাদের জন্য যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো, আর তোমাদের যা থেকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাকো, আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।’ -সুরা হাশর : ৭

অতএব কোনো মুমিন যদি চান যে তার আমলগুলো মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হোক, দুনিয়া-আখেরাতে কল্যাণ ও মুক্তির অসিলা হোক, তাহলে অবশ্যই আমলে নবী কারিম (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে (ব্যক্তি) এমন ইবাদত করল, যাতে আমাদের (দ্বীনের) কোনো নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য হিসেবে গণ্য হবে।’ -সহিহ মুসলিম : ৪৫৯০

শিরকমুক্ত জীবনযাপন : মহান আল্লাহর সঙ্গে বা তার কোনো সিফাতের (গুণাবলি) সঙ্গে কাউকে বা কোনো শক্তিকে অংশীদার করলে সব ভালো আমল (ইবাদত) নষ্ট হয়ে যায়। তাই ইবাদত কবুল করাতে চাইলে, কোনো প্রকার শিরকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা যাবে না। শিরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আমল কবুল হয় না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরিক স্থির করেন, তবে আপনার আমল নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ -সুরা জুমার : ৬৫

হালাল উপার্জন : ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন অন্যতম পূর্বশর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন।’ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদাররা তোমরা পবিত্র বস্তুসামগ্রী আহার করো, যেগুলো আমি তোমাদের রুজি হিসেবে দান করেছি।’ -সহিহ মুসলিম : ২৩৯৩

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION